Wednesday, January 2, 2019

চিকন্দী শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন বাধার মুখে

শরিয়তপুর প্রতিনিধি:
শরীয়তপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চিকন্দী শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাঙ্গালিজাতি যখন শিক্ষার আলো থেকে অনেক দূরে ঠিক তখনই প্রতিষ্ঠিত হয় শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। যা শরীয়তপুর সদর উপজেলার সবচেয়ে পুরাতন বিদ্যালয় হয়েও বর্তমানে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের কোন সহায়তা গ্রহণ করছে না পরিচালনা পর্ষদ বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠাতা পরিবার। দাতা সদস্য হিসেবেও কমিটিতে নাম নাই দাতা পরিবারের কারো।
চিকন্দী শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৮ শতকের মাঝামাঝি সময়ে মরহুম নয়ন সরকার তার পিতা মরহুম শরফ আলী সরকারের নামে চিকন্দী শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত করেন পুত্র নয়ন সরকার। প্রায় দেড়শত বছর পেরিয়েও বিদ্যালয়টি ঠেলা গাড়ির মতো চলছে। যোগ্য পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষকমণ্ডলীর অভাব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাবিয়ে তোলে সারাক্ষণ।
চিকন্দি শরফ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, শিক্ষানুরাগী ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ফরহাদ খান জানান, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান আগের মতো নেই। শিক্ষকদের অবহেলার কারণে শিক্ষার মান ক্ষুণœ হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক তার দায়িত্বে অবহেলা করায় সহকারী শিক্ষকরা কোচিং বাণিজ্য করছে। প্রধান শিক্ষকের পক্ষে না থাকলে বিদ্যালয়ের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয় সহকারী শিক্ষকরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকাবাসীদের সাথে আলাপকালে তারা জানায়, এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে বিচারপতি পর্যন্ত হয়েছে। ৪৫ জন আইনজীবী আছে যারা এই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করেছে। অত্র এলাকার সবচাইতে পুরানো ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয় এটা। আশপাশের অনেক বিদ্যালয় কলেজ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে আর আমাদের বিদ্যালয় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতার উত্তরসূরি সোহেল সরকার বলেন, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স মাস্টার্স করেছেন। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির শ্রেষ্ঠ হওয়ায় ২ বার প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্বর্ণপদক পেয়েছেন তিনি। একটা বিদ্যালয় কলেজে রূপান্তরিত বা বিদ্যালয় ভবন নির্মাণে সহায়তা করা তার পক্ষে কঠিন কিছু না। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে আরও বলেন, বিদ্যালয়টি তার পূর্বপুরুষ প্রতিষ্ঠা করেছে আর বিদ্যালয়ে দান করার ইচ্ছা তাদের এখনও আছে। ইতোমধ্যে তিনি বিদ্যালয়ের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা পর্ষদের সাথে স্বেচ্ছায় আলোচনা করেছেন। পরবর্তীতে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠন করা হলে তাদের যেন স্থান দেয়া হয়। কিন্তু কোন লাভ হয় নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুর হোসেন মিয়া বলেন, দিন দিন বিদ্যালয় উন্নয়নের দিকে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়ছে, পাশের হার বাড়ছে ভবন সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টি কলেজে উন্নীত করার জন্য আবেদন করা হয় নি। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের সাথে তার কোন যোগাযোগ নেই, তিনি শুনেছেন সভাপতির সাথে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের আলাপ আছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ সভাপতি এ্যাডভোকেট মনজুর আলম বলেন, তিনি ওই বিদ্যালয়ের ছাত্র। তার ছাত্রজীবনে অথবা বিদ্যালয়ে সভাপতি দায়িত্ব পালনকালীন প্রতিষ্ঠাতা শরফ আলী সাহেবের কোন উত্তরসূরি আছে কিনা তা তার জানা নেই। স্থানীয় কিছু প্রতিপক্ষের লোকজন নির্বাচনী পূর্ব শত্র“তা উদ্ধারের জন্য তিনি ও তার অফিস সহকারী ভাইয়ের বিরুদ্ধে সুনাম নষ্ট করার জন্য অপপ্রচার করছে। ভবন সমস্যার কারণে বিদ্যালয়টি কলেজে রূপান্তরিত করা সম্ভব না।

0 comments:

Post a Comment